হাওজা নিউজ এজেন্সি: খুলনার ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্রের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভি বলেন, “মুসল্লিদের কি বলা হবে না যে, যে আহলে বাইতের ওপর দরুদ না পড়লে নামাজ পরিপূর্ণ হয় না, সেই আহলে বাইতের প্রকৃত পরিচয় কেন তুলে ধরা হয় না? কেন হককে পর্দার আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়?”
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসজুড়ে সত্যকে গোপন করার বহু প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাত ছিল এমন এক ঐতিহাসিক ঘটনা, যার মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের অবস্থান চিরদিনের জন্য সুস্পষ্ট হয়ে যায়।
মাওলানা সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভি বলেন, “এই ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করতেই ইমাম হুসাইন কারবালায় এসে এমনভাবে শহীদ হয়েছেন, যাতে হক আর কখনও পর্দার আড়ালে ঢাকা না পড়ে।”
তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামের ইতিহাস এমন এক সময়ের সাক্ষী হয়েছে, যখন উভয় পক্ষই নিজেদের মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিত। কিন্তু ইতিহাস তাঁদের অবস্থানকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করেছে।
তিনি বলেন, “এদিকেও মুসলমান, ওইদিকেও মুসলমান। এদিকে হুসাইনি মুসলমান, ওইদিকে ইয়াজিদি মুসলমান। তখন শুধু মুসলমান পরিচয় যথেষ্ট ছিল না; পরিচয় ছিল সে হুসাইনি মুসলমান কি না।”
আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যকে ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হুসাইনকে ইসলাম থেকে আলাদা করা সম্ভব নয় এবং ইসলামকেও হুসাইন থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়।”
এই ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, কারবালার ঘটনা মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সত্য, ন্যায়বিচার, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আদর্শিক দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগ আজও মুসলিম বিশ্বে গভীরভাবে স্মরণ করা হয়।
আপনার কমেন্ট